এমটিএফই সিইওদের খুঁজছে এআই-রোবট
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এমটিএফইর মতো প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি ঠেকাতে আন্তঃ মন্ত্রণালয় ও সংস্থা পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনলাইনের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে লিড এজেন্সি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, ডিএসএ এবং বিটিআরসিকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
অপরদিকে সর্বশান্তও হওয়া ভুক্তভোগীদের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের ধরতে মাঠে নেমেছে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট। এই ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ জানিয়েছেন, এমটিএফই খুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে একটি জালিয়াত চক্র। তাই পুঁর্জি ব্যবসায়ের দুবাই ভিত্তিক ফরেক্স অ্যাপ ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ ইনকরপোরেটেড (এমটিএফই) কাণ্ডে জড়িত সিইওদের ধরতে কাজে লাগানো হচ্ছে পুলিশের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)।
পুলিশ বলছে, এমটিএফই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন হতো মোবাইল নম্বর, বিকাশ অথবা নগদ নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। ভার্চুয়ালি ক্রিপ্টো কারেন্সি ও ডলার কেনাবেচা করা হলেও লভ্যাংশ দেওয়া হতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। মোবাইল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে যারা অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আয়োজনে মঙ্গলবার বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক সূত্রে জানাগেছে, অবৈধভাবে খোলা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ‘টিএনএস বোরঘাট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চীনের একটি প্রতারক চক্র এটি করেছে। যার নামে ওই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জালিয়াত চক্রকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পথ খুলে দেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত ৩০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ মিলেছে।
কানাডা ও দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এমটিএফই সম্প্রতি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়। ২০২১ সালের পর থেকে অ্যাপসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম চালালেও তা প্রশাসনের নজরে আসেনি। লাখ লাখ মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা এখন লাপাত্তা। বিনিয়োগের কয়েক গুণ লাভ দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার জাল পাতে তারা। গত ৭ আগস্ট কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়ে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। ১৭ আগস্ট থেকে পুরোপুরি উধাও এমটিএফই।
বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, এমটিএফই’র গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪১ লাখ। আবার কোনো কোনো মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, গ্রাহক সংখ্যা ছিল আট লাখ। লাখ লাখ গ্রাহক থেকে অর্থ হাতিয়ে এমটিএফই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসলে কত টাকা এমটিএফই দেশ থেকে পাচার করেছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, এখন পর্যন্ত চলা তদন্তে এটা প্রায় নিশ্চিত এমটিএফই দেশ থেকে টাকা পাচার করে থাকলে, সেটি মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করেছে। পাচার হওয়ার টাকার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।







